
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের সুতো শিল্পে নেমে এসেছে গভীর সঙ্কট। সুতো আমদানিতে দীর্ঘদিন ধরে দেওয়া শুল্কছাড়ই এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলোর জন্য। শিল্প সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে শতাধিক কারখানা।
বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সরকারের দেওয়া শূন্য শুল্ক সুবিধার কারণে বিদেশি সুতো—বিশেষ করে ভারত ও চীন থেকে আমদানি করা পণ্য—বাজার দখল করে নিচ্ছে। ফলে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলোতে উৎপাদিত সুতো বিক্রি হচ্ছে না, বাড়ছে লোকসান।
এই পরিস্থিতিতে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা বাংলাদেশে স্পিনিং ইউনিট শাটডাউনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন টেক্সটাইল মিল মালিকরা। তাঁদের দাবি, বন্ডেড ওয়্যারহাউস সিস্টেমে সুতো আমদানির ক্ষেত্রে বিনাশুল্ক সুবিধা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
শিল্পপতিদের মতে, সুতির বস্ত্র উৎপাদনে ভারতীয় সুতোর উপর নির্ভরতা বাড়ছে পলিস্টার কাপড়ের ক্ষেত্রে চীনের দখল
শূন্য শুল্কে আমদানির ফলে স্থানীয় মিলগুলো কার্যত প্রতিযোগিতার বাইরে চলে যাচ্ছে এর ফল হিসেবে দেশের টেক্সটাইল খাত বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে আশার কথা, টেক্সটাইল মিল মালিকদের দাবির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ইউনূস প্রশাসন। সরকারের হস্তক্ষেপে যদি শুল্কনীতিতে পরিবর্তন আসে, তাহলে হয়তো রক্ষা পেতে পারে দেশের শতাধিক টেক্সটাইল মিল। একই সঙ্গে বেকারত্বের হাত থেকেও রক্ষা পাবেন হাজার হাজার শ্রমিক।
এখন শিল্প সংশ্লিষ্টদের নজর সরকারের সিদ্ধান্তের দিকেই। সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে বাংলাদেশের সুতো শিল্প যে বড় বিপর্যয়ের দিকে এগোচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।